ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) কি?

ব্যান্ডউইথ হল ডাটা প্রেরণ বা গ্রহণের ক্ষমতা পরিমাপের একটি পরিমাপক। এটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি চ্যানেলের মাধ্যমে কতগুলো ডাটা বিট (data bits) প্রেরণ বা গ্রহণ করা যায় তা নির্দেশ করে। ব্যান্ডউইথের একক সাধারণত বিট পার সেকেন্ড (bps) বা তার গুণিতক যেমন কিলোবিট পার সেকেন্ড (Kbps), মেগাবিট পার সেকেন্ড (Mbps), গিগাবিট পার সেকেন্ড (Gbps) ইত্যাদি।

ব্যান্ডউইথের বৈশিষ্ট্য

  1. ডাটা ট্রান্সফারের হার: ব্যান্ডউইথ উচ্চ হলে একক সময়ে বড় ডাটার পরিমাণ প্রেরণ করা যায়।
  2. সংকেতের ক্ষমতা: এটি নির্ধারণ করে একটি নেটওয়ার্ক বা চ্যানেলের মাধ্যমে কত ডাটা পাঠানো যায়।
  3. মাধ্যম অনুযায়ী পরিবর্তনশীল: ব্যান্ডউইথ তারযুক্ত ও তারবিহীন নেটওয়ার্কে ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ কপার ক্যাবলের তুলনায় অনেক বেশি।

উদাহরণ

  • একটি 10 Mbps ব্যান্ডউইথের ইন্টারনেট সংযোগের মানে হলো, প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ 10 মেগাবিট ডাটা প্রেরণ বা গ্রহণ করা যাবে।
  • একটি ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিসের জন্য কমপক্ষে 5 Mbps ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হতে পারে।

ব্যান্ডউইথের গুরুত্ব

  1. ডাটা ট্রান্সফার স্পিড: উচ্চ ব্যান্ডউইথ মানে ডাটা দ্রুত স্থানান্তর।
  2. নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা: নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় ল্যাগ কম হয়।
  3. উন্নত ব্যবহার অভিজ্ঞতা: ভিডিও কলিং, গেমিং, এবং স্ট্রিমিং এর জন্য ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চ্যানেলগুলোর ব্যান্ডউইথের ভিত্তিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা :

ডাটা ট্রান্সফারের জন্য ব্যবহৃত চ্যানেলগুলোর ব্যান্ডউইথের ভিত্তিতে এগুলোকে মূলত Narrow Band, Voice Band, এবং Broad Band এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। এগুলো বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগের জন্য উপযুক্ত এবং প্রতিটির ব্যান্ডউইথ বা স্পিডের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।


১. Narrow Band (ন্যারো ব্যান্ড)

সংজ্ঞা:
Narrow Band হলো এমন একটি যোগাযোগ মাধ্যম যার ব্যান্ডউইথ খুবই কম। এটি সাধারণত ধীরগতির ডাটা ট্রান্সফারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

বৈশিষ্ট্য:

  • ব্যান্ডউইথ: 0-300 bps
  • নিম্ন গতির যোগাযোগের জন্য উপযুক্ত।
  • সাধারণত টেক্সট ডাটা বা ছোট ডাটার জন্য ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ:

  • টেলিগ্রাফি।
  • পেজার সার্ভিস।
  • লো-স্পিড ডাটা লিঙ্ক।

ব্যবহার:

  • রিমোট সেন্সিং বা মিটার ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে।

২. Voice Band (ভয়েস ব্যান্ড)

সংজ্ঞা:
Voice Band হলো এমন একটি ব্যান্ডউইথ যা সাধারণত টেলিফোন যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের কণ্ঠস্বরের ফ্রিকোয়েন্সি (300 Hz থেকে 3400 Hz) সাপোর্ট করে।

বৈশিষ্ট্য:

  • ব্যান্ডউইথ: 300 bps থেকে 9.6 Kbps পর্যন্ত।
  • অডিও ট্রান্সমিশনের জন্য উপযুক্ত।
  • সংযোগে কম বিলম্ব।

উদাহরণ:

  • টেলিফোন যোগাযোগ।
  • মোডেমের মাধ্যমে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট (56 Kbps)।
  • রেডিও সম্প্রচার।

ব্যবহার:

  • টেলিফোন সিস্টেম।
  • ভয়েস কল ট্রান্সফার।

৩. Broad Band (ব্রড ব্যান্ড)

সংজ্ঞা:
Broad Band হলো উচ্চ ব্যান্ডউইথের একটি যোগাযোগ মাধ্যম যা বড় পরিমাণ ডাটা দ্রুত ট্রান্সফার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মাল্টিপ্লেক্সিং পদ্ধতিতে কাজ করে এবং একাধিক ডাটা চ্যানেল প্রেরণ করতে সক্ষম।

বৈশিষ্ট্য:

  • ব্যান্ডউইথ: 1 Mbps থেকে Gbps পর্যন্ত।
  • উচ্চগতির ডাটা ট্রান্সফারের জন্য ব্যবহৃত।
  • একসঙ্গে ভিডিও, অডিও এবং ডাটা প্রেরণের ক্ষমতা।

উদাহরণ:

  • ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট।
  • কেবল টিভি।
  • ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার লাইন (DSL)।

ব্যবহার:

  • ভিডিও স্ট্রিমিং।
  • অনলাইন গেমিং।
  • বড় ডাটার ট্রান্সফার (e.g., ক্লাউড সেবাসমূহ)।

তুলনামূলক টেবিল

প্রকারব্যান্ডউইথউদাহরণব্যবহার
Narrow Band0-300 Kbpsটেলিগ্রাফি, পেজারধীরগতির ডাটা ট্রান্সফার।
Voice Band300 bps – 9.6 Kbpsটেলিফোন, ডায়াল-আপ ইন্টারনেটভয়েস ও সাধারণ ডাটা ট্রান্সফার।
Broad Band1 Mbps – Gbpsফাইবার অপটিক, DSL, কেবল টিভিউচ্চগতির ডাটা ও মাল্টিমিডিয়া।

Leave a Comment